ডায়াবেটিসে কিডনি নষ্ট হয় কেন? সুস্থ থাকতে করণীয়
- Ajay Kumar Ojha
- Jan 18
- 2 min read
বর্তমানে বাংলাদেশে কিডনি নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণ হলো ডায়াবেটিস। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট কিডনি ফেইলিওরের প্রায় ৪০ শতাংশই ডায়াবেটিসের কারণে হয়ে থাকে। আগে যেখানে অন্যান্য রোগকে কিডনি বিকলের মূল কারণ হিসেবে ধরা হতো, সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। এখন ডায়াবেটিসই এই তালিকার শীর্ষে।
দেরিতে ধরা পড়াই সবচেয়ে বড় সমস্যা
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—বেশিরভাগ রোগী যখন চিকিৎসকের কাছে আসেন, তখন তাঁদের কিডনির প্রায় ৯০ শতাংশ কার্যক্ষমতা ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। এই পর্যায়ে শুধু ওষুধ দিয়ে আর রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয় না। তখন বাধ্য হয়ে নিতে হয় ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশে খুব অল্প মানুষই দীর্ঘমেয়াদে এই চিকিৎসা নিয়মিত চালিয়ে যেতে পারেন। অনেক পরিবার শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে চিকিৎসা শুরু করেন, কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই অর্থের অভাবে থেমে যেতে হয়। এতে শুধু রোগী নয়, পুরো পরিবারই মানসিক ও আর্থিকভাবে ভেঙে পড়ে।
এই কঠিন বাস্তবতায় সবচেয়ে কার্যকর সমাধান একটাই—প্রতিরোধ।
কিডনি রোগ কেন শুরুতেই ধরা পড়ে না?
ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগের শুরুতে সাধারণত কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। রোগটি ধীরে ধীরে বাড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তৃতীয় পর্যায়ে গিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়ে। এই পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে অনেক সময় কিডনির ক্ষতি থামিয়ে দেওয়া যায়, এমনকি কিছুটা উন্নতিও সম্ভব।
কিন্তু রোগ যদি শেষ ধাপে পৌঁছে যায়, তখন আর কার্যকর চিকিৎসার সুযোগ থাকে না।
“এত ওষুধ কেন?”—রোগীদের সাধারণ প্রশ্ন
অনেক রোগী বলেন,“ডায়াবেটিসের ওষুধ, প্রেসারের ওষুধ, রক্তশূন্যতার ওষুধ, আবার ভিটামিন-ক্যালসিয়াম—এত কিছু কেন?”
এর কারণ হলো, ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ শুধু সুগার বা প্রেসারের সমস্যা নয়। এই রোগের পেছনে শরীরের ভেতরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ (inflammation) বড় ভূমিকা রাখে। এই প্রদাহ ধীরে ধীরে কিডনির ক্ষতি করে।
কিডনির পাশাপাশি হার্ট ও মস্তিষ্কও ঝুঁকিতে
এই প্রদাহের প্রভাব শুধু কিডনিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কের ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ায়। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসা একাধিক দিক বিবেচনায় নিয়ে করতে হয়।
তবে আশার কথা হলো
✔ রোগ আগেভাগে ধরা পড়লে
✔ ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে
✔ নিয়মশৃঙ্খল জীবনযাপন করলে
কিডনি বহু বছর সুস্থ রাখা সম্ভব
অনেক ডায়াবেটিক রোগী সারা জীবন কোনো কিডনি জটিলতা ছাড়াই জীবন কাটান—শুধু নিয়মিত চেকআপ ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার কারণে।
আধুনিক চিকিৎসায় নতুন আশার কথা
বর্তমানে ডায়াবেটিসের এমন কিছু আধুনিক ওষুধ এসেছে, যা শুধু রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণ করে না
কিডনিকে সুরক্ষা দেয়
হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়
ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে
সঠিক রোগীর ক্ষেত্রে এসব ওষুধ বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
যাঁদের পরিবারে ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে ঝুঁকি থাকলেই কিডনি নষ্ট হবে এমন নয়।
👉 নিয়মিত চেকআপ
👉 জীবনযাপনে শৃঙ্খলা
👉 চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলা
এই তিনটি অভ্যাস থাকলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং কিডনি সুস্থ রাখা সম্ভব।
ডায়াবেটিস অবহেলা করলে কিডনি রক্ষা করা যায় না। কিন্তু সচেতন হলে, নিয়ম মানলে এবং সময়মতো চিকিৎসা নিলে ভালো থাকা সম্ভব। কিডনি বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো—আগে থেকে সতর্ক হওয়া, পরে নয়।
👉 ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য Sandor Dialysis Services-এর সাথে যোগাযোগ করুন।

Comments