ইএসআরডি কী? ডায়ালাইসিস কখন প্রয়োজন হয় – রোগীর জন্য পূর্ণ গাইড
- Ajay Kumar Ojha
- Jan 15
- 2 min read
ইএসআরডি কী?
ইএসআরডি বা এন্ড স্টেজ রেনাল ডিজিজ হলো কিডনি বিকল হওয়ার সর্বশেষ ধাপ। এই পর্যায়ে কিডনি তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার প্রায় ৮৫–৯০ শতাংশ হারিয়ে ফেলে। ফলে শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ, অতিরিক্ত পানি ও ক্ষতিকর উপাদান অপসারণ করা কিডনির পক্ষে আর সম্ভব হয় না।
এই অবস্থায় রোগীর জীবন রক্ষার জন্য ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি প্রতিস্থাপন অপরিহার্য হয়ে ওঠে। ডায়ালাইসিস শুরু করার আগে রোগী ও পরিবারের সদস্যদের মনে স্বাভাবিকভাবেই ভয়, প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সঠিক তথ্য জানা থাকলে এই মানসিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ডায়ালাইসিস কী?
ডায়ালাইসিস হলো একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কিডনি কাজ করতে না পারলে কৃত্রিমভাবে শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত তরল বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে ডায়ালাইসিস প্রধানত দুইভাবে করা হয়ে থাকে।
হেমোডায়ালাইসিস
হেমোডায়ালাইসিসে রোগীর রক্ত শরীরের বাইরে এনে একটি বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হয়।
সাধারণত সপ্তাহে ২–৩ দিন, প্রতিবার প্রায় ৪ ঘণ্টা সময় লাগে
এর জন্য হাতে একটি বিশেষ রক্তনালির সংযোগ তৈরি করতে হয়, যাকে এভি ফিস্টুলা বা ক্যাথেটার বলা হয়
এটি হাসপাতাল বা ডায়ালাইসিস সেন্টারে করা হয়
পারিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস
পারিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসে পেটের ভেতরের প্রাকৃতিক পর্দা বা পেরিটোনিয়াম ব্যবহার করে শরীরের ভেতরেই রক্ত পরিশোধন করা হয়।
রোগী নিজে বাসায় এই ডায়ালাইসিস করতে পারেন
প্রতিদিন কয়েকবার বিশেষ তরল পেটে ঢোকানো ও বের করার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়
বাড়িতে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক রোগীদের জন্য এটি একটি কার্যকর বিকল্প
কখন ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হয়?
যখন কিডনি শরীর থেকে পানি, লবণ, ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন ও ওষুধের বর্জ্য অপসারণে ব্যর্থ হয়, তখন এসব বিষাক্ত উপাদান রক্তে জমে গিয়ে জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। তখন ডায়ালাইসিস ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর বিকল্প থাকে না।
এই সময় রোগীর মধ্যে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে—
হাত-পা, মুখমণ্ডল বা সারা শরীর ফুলে যাওয়া
অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ভার লাগা
খাবারে অনীহা, ঘন ঘন বমি বা বমি বমি ভাব
নিশ্বাসে কষ্ট বা বুকে চাপ
প্রস্রাব কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া
মানসিক বিভ্রান্তি, খিঁচুনি
রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে গিয়ে হৃৎস্পন্দনে সমস্যা
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডায়ালাইসিসের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি
মানসিক প্রস্তুতি
ডায়ালাইসিস মানেই জীবন শেষ—এই ধারণা ভুল। আত্মবিশ্বাস রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে অথবা অন্য ডায়ালাইসিস রোগীদের অভিজ্ঞতা শুনে মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া যায়।
শারীরিক প্রস্তুতি
হেমোডায়ালাইসিসের জন্য ফিস্টুলা তৈরির অস্ত্রোপচার সাধারণত ছোট ও নিরাপদ। শরীরের পানির ভারসাম্য, পটাশিয়াম ও হিমোগ্লোবিন ঠিক রাখতে নিয়মিত ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। শুরুতে কিছু দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা বমি হতে পারে, তবে ধীরে ধীরে শরীর মানিয়ে নেয়। হালকা ব্যায়াম ও পরিমিত ঘুম সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।
পারিবারিক প্রস্তুতি
ডায়ালাইসিস রোগীর একার লড়াই নয়। চিকিৎসার সময়সূচি মেনে চলা, হাসপাতালে যাতায়াত, খাবার প্রস্তুত এবং মানসিক সমর্থনে পরিবারের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থনৈতিক প্রস্তুতি
ডায়ালাইসিস একটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, যা সাধারণত সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার করতে হয়। সরকারি হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে এই সেবা পাওয়া যায়। আগেভাগে খরচ সম্পর্কে ধারণা থাকলে চিকিৎসা পরিকল্পনা সহজ হয়।
ডায়ালাইসিস কোনো শাস্তি নয়—এটি একটি জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা ব্যবস্থা। ভয় বা ভুল ধারণার কারণে দেরি না করে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই রোগীর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
👉 ডায়ালাইসিস ও কিডনি রোগ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য Sandor Dialysis Services-এর সাথে যোগাযোগ করুন।

very nice